মণিরামপুরে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি ভাংচুর, জড়িতদের গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এমপির উপস্থিতিতে প্রতিবাদ সমাবেশ।

জি এম ফারুক আলম, মণিরামপুর

যশোরের মণিরামপুর উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়ন পরিষদের পাশে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার ছবি ভাংচুর করা সহ স্থানীয় সংসদ সদস্য এস এম ইয়াকুব আলীর ছবি সম্বলিত ব্যানার ফেস্টুন ছিড়ে ফেলা হয়েছে। এ ঘটনায় শনিবার সন্ধ্যায় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ের সামনে এক প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশে বক্তারা অভিযুক্তদের অবিলম্বে গ্রেফতারসহ কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

জানা যায়, গত শুক্রবার (২৪মে) রাত অনুমান ৮টার দিকে মনোহরপুর ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে নবনির্বাচিত মণিরামপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন লাভলুর এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠান শেষে ওই ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি এস এম আক্তার ফারুক মিন্টুর নেতৃত্বে এলাকার কামাল হোসেন, নাজমুল গাজী, মাসুদ খান, সন্দীপ মন্ডল, আনিছুর রহমান, সুভাষ বিশ্বাস, মোস্তফা গাজী, বুলবুল ফকির, মোস্তাক তরফদার সহ ১২/১৪ জন অজ্ঞাতনামা যুবক অফিসে হামলা চালিয়ে দেওয়ালে টাঙানো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার ছবি ভাংচুর করে। এছাড়া স্থানীয় যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনের সংসদ সদস্য এস এম ইয়াকুব আলীর ছবি সম্বলিত ব্যানার ফেস্টুনগুলো ছিড়ে ফেলে দুষ্কৃতকারীরা।

এ সময় অফিসে থাকা আসসবাবপত্রও ভাংচুর করে দূর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় মনোহরপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আব্দুর সবুর গাজী বাদী হয়ে পরদিন মণিরামপুর থানায় একটি লিখিত এজাহার দাখিল করেন। যেটা নিয়ে পুলিশ প্রশাসনের মধ্যে চলছে লুকোচুরি খেলা।

এই ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার সন্ধ্যায় মনোহরপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আয়োজনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে এক প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি কালিপদ মন্ডলের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনের সংসদ সদস্য এস এম ইয়াকুব আলী।

সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মহিতুজ্জামান মহিতের পরিচালনায় প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক ফারুক হোসেন, উপজেলা পরিষদের নবনির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান সন্দীপ ঘোষ, সাবেক ছাত্রনেতা মনিরুজ্জামান মিল্টন, কাজী তাজাম্মূল হুসাইন টিটো, নেহালপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম এম ফারুক হুসাইন, মনোহরপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাস্টার মশিয়ুর রহমান, আওয়ামী লীগ নেতা মিলন ঘোষাল প্রমুখ।

সভায় এমপি ইয়াকুব আলী তাঁর বক্তব্যে বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে লালন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন দেশকে উন্নয়নের স্বর্ণশিখরে নিয়ে যাচ্ছেন ঠিক তখনই দুষ্কৃতিকারীরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার ছবি ভাংচুরের মাধ্যমে দেশে অরাজকতা পরিস্থিতি সৃষ্টির অপপ্রয়াস চালাচ্ছে। বঙ্গবন্ধু কেবল রাজনৈতিক দলের নেতা নন, তিনি আমাদের জাতির পিতা। তার সাথে দেশের স্বাধীনতার অস্তিত্ব জড়িত। মূলত যারা দেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না তারাই আমাদের স্বাধীনতার চেতনায় উৎস বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি ভাংচুরের মতো ঘৃণ্য কাজ করেছেন। জাতির পিতার এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রতি এই অবমাননামূলক ধৃষ্টতার সঙ্গে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে রোববার বিকেল সাড়ে চারটার সময় এ রিপোর্ট লেখার আগ পর্যন্ত থানায় কোন মামলা হয়নি। থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এবিএম মেহেদী মাসুদ এজাহারে বিষয় অস্বীকার করে বলেন, এ ঘটনায় কেউ থানায় এজাহার দায়ের করেনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *